দ্বিতীয় সত্তার সঙ্গে কথোপকথন-স্বকৃত নোমান

swakrito Noman

দ্বিতীয় সত্তার সঙ্গে কথোপকথন

পর্ব- (৩-৬)

 

তিন.

এবং তুমি ভ্রমণ করবে। ভ্রমণের জন্য একটা পা সবসময় তোলা থাকবে তোমার। যখনই সুযোগ পাবে বেরিয়ে পড়বে। দশটি বই পড়ে যে জ্ঞান তুমি অর্জন করবে, একবার ভ্রমণে বেরিয়ে তার চেয়ে বেশি জ্ঞান অর্জন করে ফেলাটা বিচিত্র কিছু নয়। বিদেশ ভ্রমণ করবে সামর্থ অনুযায়ী। দেশে তো অবশ্যই। বিদেশ ভ্রমণের আগে নিজের দেশটাকে ভালো করে চিনে নিতে হবে তোমাকে। তুমি বাংলা ভাষায় উপন্যাস লিখবে, অথচ বাংলাদেশটাকে চিনবে না, জানবে না, তা তো হতে পারে না। বেরিয়ে পড় পিঠে একটা ব্যাগ ঝুলিয়ে। হাঁটতে শুরু করো হাঁটাবাবার মতো। বাংলার প্রতি ইঞ্চি মাটির ঘ্রাণ নাও শূকরের মতো। বট-পাকুড়ের ছায়ায় গিয়ে দাঁড়াও ক্লান্ত কৃষকের মতো। বাংলার নদীর কাছে গিয়ে দাঁড়াও। নদীতে ভারাকাটালের উচ্ছ্বাস দেখ, সর্বনাশা ভাঙন দেখ, জোয়ার-ভাটার স্রোতে কচুরিপানার কাঁপন দেখ, টেংরা-পুঁটির ঘাই দেখ। বাঙাল মানুষের চোখের দিকে তাকাও প্রেমিকের মতো। তাদের চোখ আর মনের ভাষা বোঝার চেষ্টা করো। তাদের ভাবনার সঙ্গে তোমার বই-পুস্তকের পাঠ মিলিয়ে নাও। পুরো বাংলাদেশটাকে নিজের বুকের ভেতর বসিয়ে তারপর লিখতে বসো। মনে রাখবে, উপন্যাস ব্যাংকের ডেবিট-ক্রেডিট নয়। টেবিল ওয়ার্ক করে উপন্যাস তুমি লিখতে পারবে না। পারলেও, নিশ্চিত জেনে রেখো, সেই উপন্যাসে জীবনের স্পন্দন থাকবে না।

 

চার.

শেষ রাতের তন্দ্রার ঘোরে তুমি আমাকে প্রশ্ন করেছিলে, ‘ঔপন্যাসিকের পেশা কী হওয়া উচিত?’ শোনো, তুমি যদি প্রকৃত লেখক হও, পেশা তোমার লেখালেখিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না। তুমি সরকারের সর্বোচ্চ পদাধিকারীও হতে পার, আবার সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত পাবলিক টয়লেটের ইজারাদারও হতে পার। কিংবা ঐ টয়লেটের ম্যানেজারও হতে পার। পেশা নিয়ে প্রকৃত ঔপন্যাসিকের হীনম্মন্যতাবোধ থাকে না। মাথা ঘামায় না। তুমি দেখবে, তোমার বন্ধুরা ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটে বেড়াচ্ছে। তুমি তাদের ছোটাছুটি দেখে হাসবে। বাংলাদেশের কথাসাহিত্যিক হামীম কামরুল হকের একটা উক্তি আছে এরকম : ‘সবাই ছুটছে, কাউকে না কাউকে থমকে দাঁড়াতেই হবে।’ তাঁর এ কথাটা কিন্তু হৃদয়ে গেঁথে নেওয়ার মতো। তুমি হচ্ছো থমকে দাঁড়ানোদের দলে। তুমি ঔপন্যাসিক, ক্যারিয়ারের পেছনে ছোটা তোমার জন্য ক্ষতিকর। তোমার সমস্ত ছোটাছুটি উপন্যাসের পেছনে।

হ্যাঁ, ঔপন্যাসিকের উপযোগী একটা পেশা থাকলে, সন্দেহ নেই, খুব ভালো ব্যাপার। যেমন অধ্যাপনা। আমার মনে হয়, ঔপন্যাসিকের জন্য এটি একটি আদর্শ পেশা। এই পেশায় থাকলে সার্বক্ষণিক জ্ঞানচর্চার সঙ্গে থাকা যায়। কিন্তু সবার পক্ষে তো অধ্যাপক হওয়া সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে এমন একটি পেশা থাকবে, যার ডিউটি হবে সর্বোচ্চ আট ঘণ্টা। এর বেশি কোনোভাবেই যাতে না হয়। মনে রাখবে, মাস শেষে সংসার চালানোর মতো একটা নির্দিষ্ট অংকের টাকা তোমার পকেটে আসতেই হবে, নইলে লেখালেখি তোমার কাছ থেকে হারিয়ে যেতে পারে। শোনো, আমার শিল্পগুরু আমাকে প্রায়ই বলতেন, ‘লিখতে বসার আগে পকেটে অবশ্যই পাঁচ হাজার টাকা রাখবি।’ একদিন আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘স্যার, লিখতে বসলে পাঁচ হাজার টাকা পকেটে রাখত হবে কেন?’ তিনি বললেন, ‘অর্থচিন্তা লেখকের প্রতিভাকে নষ্ট করে দেয়।’ আমি বললাম, ‘লেখক তো প্রতিদিন পাঁচ হাজার টাকা রোজগার নাও করতে পারে।’ তিনি বললেন, ‘পাঁচ হাজার টাকা মানে এই নয় যে ঠিক পাঁচ হাজার টাকাই রাখতে হবে। বলতে চাচ্ছি দৈনন্দিন খরচের টাকাটা যেন তার পকেটে ঠিকঠাকমতো থাকে।’ গুরুর সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ একমত।

তুমি জানতে চেয়েছ, ‘ঔপন্যাসিকের পক্ষে ব্যবসায়ী হওয়া উচিত কিনা?’ না, উচিত নয়। ব্যবসা এমন একটি পেশা, যার পেছনে হরদম লেগে থাকতে হয়। যেমন লেগে থাকতে হয় লেখালেখির পেছনে। ব্যবসা হচ্ছে টাকার কারবার। আর টাকা এমন এক নেশার নাম, একবার যদি তুমি এই নেশায় পড়ে যাও, সহজে আর কাটিয়ে উঠতে পারবে না। আর তুমি ব্যবসায়ী হলে তোমার বন্ধু-সার্কেল হবে ব্যবসায়ীরা, পৃথিবীতে যারা মুনাফা ছাড়া আর কিচ্ছু বুঝতে চায় না। লেখক হিসেবে তোমার জন্য মুনাফা-চিন্তা বড় কুৎসিত। সুতরাং তোমার পেশা ব্যবসা না হওয়াই ভালো।

তুমি আরো জানতে চেয়েছ, ‘ঔপন্যাসিকদের কাজের ক্ষেত্র হিসেবে সংবাদপত্র কি যথাযথ?’ না, যথাযথ নয়। সংবাদপত্র ঔপন্যাসিকদের কাছ থেকে অনেক কিছু হরণ করে নেয়। হ্যাঁ, প্রথম জীবনে সংবাদপত্রে কাজ করাটাই উত্তম। রিপোর্টার হতে পারলে খুব ভাল। তাতে লেখালেখির হাতটা দ্রুত খুলবে। কিন্তু ঠিক সময় সংবাদপত্রকে কিন্তু বিদায় জানাতে হবে। বিশ্বখ্যাত ঔপন্যাসিক আর্নেস্ট হেমিংওয়ের নাম শুনেছ? তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেনে, ‘তরুণ লেখকদের জন্য সংবাদপত্র আদর্শ জায়গা বটে, কিন্তু সময়মতো সংবাদপত্র থেকে সরে দাঁড়ানোটা বুদ্ধিমত্তার কাজ।’ তাঁর কথাটির সঙ্গে আমি একমত। পৃথিবীর বড় বড় ঔপন্যাসিকরা সংবাদপত্রে কাজ করেছেন বটে, তবে সময়মতো সরেও দাঁড়িয়েছেন। অবশ্য অনেকে সংবাদপত্রে থেকেও বড় বড় কাজ করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদপত্র একজন ঔপন্যাসিকের জন্য সঠিক জায়গা নয়। এখানকার সংবাদপত্রে যে অস্থিরতা বিরাজ করে, তা তোমার পক্ষে কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তুমি যে পেশাতেই থাক, দিনের শেষে পেশার কথা ভুলে যাবে। আমার গুরু আমাকে বলতেন, তোমার মাথাটাকে ডান-বাম দুই ভাগে ভাগ করে নাও। ডানের অংশে রাখবে দৈনন্দিন বিষয়াবলি। যেমন চাকরি, সংসার, সঙ্গম, সন্তান, হাটবাজার, আড্ডা, মুদি দোকান, বার, চা দোকান ইত্যাদি। এবং বাঁয়ের অংশে রাখবে জ্ঞান। এই অংশটা তোমার লেখকসত্তার জগত। এখানেই তোমার অধিবাস। এই অংশটা হবে সংরক্ষিত এলাকা। দৈনন্দিনতার প্রবেশ এখানে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই সংরক্ষিত এলাকার সঙ্গে প্রকৃতির একটা সরাসরি সংযোগ থাকবে। এখানে নদ-নদী, সপ্ত সমুদ্র, বিস্তৃত আকাশ আর আদিগন্ত ভূমি থাকবে, পাহাড় অরণ্যও থাকবে, অযুত-নিযুত পাখির কলতান থাকবে, আর থাকবে জীবনের সব অভিজ্ঞতার নির্যাস।

পার্থিব জটিলতাগুলো তোমাকে যখন আঁকড়ে ধরতে চাইবে, ঝটপট তুমি মাথার ডানের অংশের দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে বাঁয়ের অংশে ডুব দেবে। দেখবে, সাধারণদের মতো পার্থিব গ্লানি তোমাকে  তেমন স্পর্শ করতে পারবে না। এবং মধ্যরাতে কিংবা শেষ রাতে, স্থাবর-জঙ্গম যখন নিশিঘুমে থাকে, ডানের অংশের দরজাটা তুমি বন্ধ করে দেবে এবং খুলে দেবে বাঁয়ের অংশটা। যদি এই সাধনা চালিয়ে যেতে পার, তবে তুমি কলমের খোঁচায় স্বর্ণখনি আবিষ্কার করতে পারবে। প্রকৃতির বহু গোপন রহস্য তোমার কাছে ধরা দিতে থাকবে। ক্রমে তুমি হয়ে উঠতে থাকবে ক্ষমতাসম্পন্ন একজন ঔপন্যাসিক।

 

পাঁচ.

তোমার চোখ-মুখ দেখে মনে হচ্ছে ঔপন্যাসিক হওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছ খানিকটা। নিশ্চয়ই ভাবছ, এত নিয়ম-কানুন মেনে কি উপন্যাস লেখা যায়? আমি তোমার এই প্রশ্নের উত্তর দেব সবশেষে। একটু ধৈর্য ধরো। তবে খেয়াল রাখবে, আমার তন্দ্রাভাবটা যেন কেটে না যায়। তুমি আমাকে তন্দ্রার ঘোরে এসব প্রশ্ন করছ, তাই উত্তর দিতে পারছি। জাগ্রত হলে কোনো উত্তরই তুমি পেতে না। কারণ আমি উপন্যাসের নগণ্য একজন কর্মী, আমার কাজ নয় তোমাকে এসব পরমর্শ দেওয়া।

শোনো, লেখকের জন্য নিয়মানুবর্তিতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তুমি বলতে পার, পৃথিবীর কত বড় বড় কবি জীবনের বিপুল অপচয় করে কবিতা লিখেছেন, আর আমি কিনা নিয়মানুবর্তিতার কথা শোনাচ্ছি তোমাকে! শোনো, জীন স্টীনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঔপন্যাসিক উইলিয়াম ফকনার বলেছিলেন, ‘ঔপন্যাসিকের ৯৯% হলো মেধা, ৯৯% হলো নিয়মানুবর্তিতা, ৯৯% হলো কাজ করে যাওয়া।’ সুতরাং ঔপন্যাসিক হতে হলে জীবন যাপনে তোমাকে নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে থাকতে হবে। কবির জন্য নিয়ম না হলেও চলে। একটি উপন্যাস লেখার জন্য যে বোধ, যে অনুসন্ধান, যে প্রজ্ঞা আর যে সৃষ্টিশীলতার প্রয়োজন হয়, একটি কবিতা লেখার ক্ষেত্রেও তাই প্রয়োজন হয়। কিন্তু কবিতা ও কথাসাহিত্যে পরিশ্রমের মাত্রা এক নয়। সৃষ্টিশীলতার মাত্রা সমান হলেও পরিশ্রমের মাত্রায় ফারাক আছে। একটি কবিতা লিখতে কতক্ষণ বা কতদিন সময় লাগে? বড়জোর এক ঘণ্টা, একদিন বা এক সপ্তাহ? অপরপক্ষে একটি উপন্যাস লিখতে তিন মাস, ছয় মাস, এক বছর, দুই বছর কিংবা তারও বেশি সময় লেগে যেতে পারে। সময়টা উপন্যাসের বিষয়বস্তুর ওপর নির্ভর করে। মনে রাখবে, যে উপন্যাস দুদিন দিন, চার দিন বা এক সপ্তায় লেখা হয় সেটি উপন্যাস হয়ে ওঠার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। সেটি উপন্যাস নামের ঝঞ্জাল হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ধানের মধ্যে তুষ যেমন।

তোমার চোখ দেখে মনে হচ্ছে তুমি দস্তয়ভস্কির ‘জুয়াড়ি’ উপন্যাসটার কথা বলতে চাইছ। শোনো, মহামতি দস্তয়ভস্কি মাত্র এক রাতে উপন্যাসটি লিখেছিলেন, কথাটি সত্যি নয়। তুমি এই কথাকে গাঁজাখোরি একটা গল্প বলতে পারো। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, দস্তয়ভস্কির জীবনকেন্দ্রিক ঐ ছোট্ট উপন্যাসটি লিখতে সময় লেগেছি প্রায় চব্বিশ দিন। ‘মোড়লের শরৎ’ লিখবার জন্য গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ পরিকল্পনা করেছেন সতের বছর; লেখাটা শেষ করতে যদিও দু-বছরের বেশি লাগেনি। লেখা শেষ করার পরও ঠিক লেখাটা পেতে গিয়ে দুবার পুরো লেখাটা পাল্টাতে হয়েছিল। আর হান্ড্রেড ইয়ারস অব সলিটিউড? এটি লেখার জন্য মার্কেস পরিকল্পনা করেছিলেন প্রায় পনের বছর; যদিও টাইপরাইটারে লিখতে লেগেছিল মাত্র আঠার মাস।

শুধু মার্কেসই নন, প্রত্যেক ঔপন্যাসিকেরই প্রচুর সময় ব্যয় করতে হয় উপন্যাস রচনায়। উপন্যাস আসলে এমন এক জটিল শিল্পকর্ম, যার মধ্যে সারাক্ষণ থাকতে হয়। এটি লেখার মুড-এর উপরে নির্ভর করে না। তোমাকে আগেই বলেছি, উপন্যাস ওহী নয়, ইলহাম নয়, নয় কোনো অলৌকিক বাণী। এটি ঝলকানির মতো আসে না। একে ধরতে হয়। বড়শি দিয়ে যেমন মাছ ধরে শিকারি। কবিতা ঝলকানির মতো আসতে পারে। কবি ঘুমানোর জন্য বালিশে মাথা রাখলেন, অমনি কবিতার পংক্তি তার মাথায় ঝিলিক দিয়ে উঠল, আর শোয়া থেকে উঠে মাত্র দশ-বিশ মিনিটে তিনি কবিতাটি মাথা থেকে কাগজে নামিয়ে ফেলতে পারেন। ভোরে ঘুম থেকে উঠে কাটাছেঁড়া করে এটিকে আরো সুন্দর করে প্রকাশের জন্য পত্রিকায় পাঠিয়ে দিতে পারেন।

কিন্তু উপন্যাসের ব্যাপারটা এমন নয়। উপন্যাস আসলে বিক্ষিপ্ত একটা ব্যাপার। উপন্যাসের সব কিছুই বিক্ষিপ্ত অবস্থার মধ্যে থাকে। কাহিনি, চরিত্র, শব্দ, বাক্য, আঙ্গিক, সব। অনেকটা নির্মিতব্য বাড়ির মতো। বাড়িটা তৈরির জন্য ফাঁকা একটা জায়গার একদিকে ইট-সুরকি, একদিকে সিমেন্ট-বালি, একদিকে রডের স্তুপ পড়ে থাকে বিক্ষিপ্তভাবে। অক্লান্ত সাধনায় এই বিক্ষিপ্ত উপাদানগুলোকে সাজিয়ে তোলেন রাজমিস্ত্রি, নির্মাণ করেন বিশাল এক দৃষ্টিনন্দন ইমরাত। এই সৃষ্টির জন্য তাকে লেগে থাকতে হয়। ব্যাপারটা এমন নয় যে ডিজাইনটা করে একদিনেই তিনি ইমরাতটা নির্মাণ করে ফেলতে পারেন।

উপন্যাসের নির্মাণও এমনই। তুমি ঔপন্যাসিক, তোমার যখন লেখার মুড আসবে তখন লিখলে, বাকি সময় ঘুরেফিরে কাটিয়ে দিলে―এই করে উপন্যাস লেখা হবে না। বেহায়া প্রেমিকের মতো তোমাকে সারাক্ষণ উপন্যাসের পেছনে লেগে থাকতে হবে। ঔপন্যাসিকের প্রেরণা আসলে নিয়মানুবর্তিতারই ফল। অর্থাৎ প্রতিদিন তোমাকে লিখে যেতে হবে। হ্যাঁ, প্রতিদিন হয়ত তোমার তার পক্ষে উপন্যাস লেখা সম্ভব হয় না সত্যি, কিন্তু প্রতিদিন উপন্যাসটি নিয়ে অনুধ্যানের মধ্যে থাকতে হবে। প্রচুর নোট নিতে হবে। যে চরিত্রটি নিয়ে লিখবে তার অবয়ব নিয়ে, তার চিন্তা-চেতনা নিয়ে, তার স্বপ্ন ও কল্পনা নিয়ে, তার আচার-আচরণ, তার যৌনতা, তার খাদ্যাভ্যাস এবং তার চারিত্রিক গুণাবলী-দোষাবলী নিয়ে প্রচুর গবেষণা করতে হবে। তুমি পোদ্রো নোবা’র নাম শুনেছ নিশ্চয়ই? তিনি তো তার চরিত্রদের ছবি পর্যন্ত আঁকতেন লেখার আগে। তাদের চেহারা, চুল, তাদের পোশাক-আশাক―সব এঁকে নিয়ে তারপর লিখতে বসতেন। আমি বলছি না তোমাকেও নোবার মতো করতে হবে। বলছি, লেখার আগে মাথায় সাজিয়ে নিতে হবে সবকিছু। অর্থাৎ ডিজাইনটা করে নিতে হবে। এই সাজানোর জন্য সময়ের প্রয়োজন।

এই সময় তুমি কীভাবে পাবে? জীবন কিন্তু খুব ছোট। নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে না থাকলে সময় বের করা সম্ভব নয়। আগেই বলেছি, তুমি চাকরিজীবী হলে আট ঘণ্টার বেশি ডিউটি করবে না। বাকি ষোল ঘণ্টা তোমার। এর মধ্যে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুম। পর্যাপ্ত ঘুম তোমার খুবই প্রয়োজন। কমপক্ষে সাত ঘণ্টা না ঘুমালে মস্তিষ্ক ঠিকমতো কাজ না-ও করতে পারে। স্মৃতিরা প্রতারণা করে ধরা না-ও দিতে পারে। লেখকের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে স্মৃতি। সুতরাং ঘুমের ব্যাপারে আপোষ নয়। তোমাকে অবশ্যই একটা নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমিয়ে পড়তে হবে। হতে পারে রাত নয়টায়, অথবা দুটায়। কখন ঘুমাবে সেটা তোমার সিস্টেমের ওপর নির্ভর করবে। তবে মনে রাখবে, লেখার জন্য রাত হচ্ছে উৎকৃষ্ট সময়। রাতে প্রাণীকূল ঘুমিয়ে পড়ে, তোমার পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়ে। তখন তোমাকে ডিস্টার্ব করার মতো কেউ থাকে না। সুতরাং লেখার জন্য তুমি রাতকে বেছে নিতে পার।

তোমার আড্ডা হবে সীমিত। তুমি চাকরিজীবী না হলে রোজ আড্ডা দিতে পার। আড্ডা কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ। একবার ভ্রমণ করা যেমন দশটি বই পড়ার সমান হয়ে উঠতে পারে, একটি আড্ডাও দশটি বই পড়ার সমান হয়ে উঠতে পারে, যদি আড্ডাটা ঠিক মানুষের সঙ্গে হয়। কিন্তু তুমি যদি চাকরিজীবী হও, সপ্তাহে একদিনের বেশি আড্ডা অবশ্যই দেবে না। দিলে তোমার লেখার মনোযোগ হারিয়ে যাবে। ধারাবাহিকতা নষ্ট হবে। উপন্যাসের চরিত্ররা তোমার কাছ থেকে দূরে সরে যাবে। এবং আড্ডা দেবে অবশ্যই লেখক-প্রকাশক-সংস্কৃতিজনদের সঙ্গে। কারণ এরা তোমার জগতের মানুষ। তোমার জগতের বাইরের মানুষের সঙ্গে আড্ডা দেওয়াটা তোমার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। চেষ্টা করবে তোমার সিনিয়রদের সঙ্গে আড্ডা দিতে। কারণ তারা তোমার চেয়ে জানেন বেশি। জুনিয়রদের সঙ্গে আড্ডা হতে পারে। তবে তা দুই মাসে একবারের বেশি নয়।

আর তোমার নিয়মানুবর্তিতার অন্যতম একটি দিক হবে তোমার স্বাস্থ্যসচেতনতা। তোমার খাবার-দাবার হবে চাহিদামতো। বেশিও নয়, কমও নয়। কম-বেশি হলে শারীরিক বিড়ম্বনার কারণ হতে পারে। তাতে তোমার ধ্যান বাধাগ্রস্ত হবে। তুমি ধুমপায়ী হলে চেষ্টা করবে লেখার সময়টুকু ছাড়া অন্য সময় যাতে ধুমপান না করে থাকা যায়। ধুমপানের বিরুদ্ধে সমস্ত প্রচারণাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেবে। সিগারেট রাখার জন্য রাখবে আলাদা একটা বক্স। লেখার টেবিলে সিগারেটের প্যাকেট রাখবে না। কারণ প্যাকেটের গায়ে ধুমপানবিরোধী যেসব দৃশ্য দেওয়া থাকে, তা তোমার মনোজগতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। মনে রাখবে, সারা পৃথিবী তোমাকে ভয় দেখানোর জন্য এক পায়ে দন্ডায়মান। ভয়কে অবশ্যই জয় করে নিতে হবে তোমাকে।

পরিকল্পনা, গবেষণার সময় বাদ দিয়ে দুই শ পৃষ্ঠার একটি উপন্যাস লিখতে কম করে হলেও ছয় মাস তো লাগেই। কেউ হয়ত তিন মাসে বা আরো কম সময়ে লিখে উঠতে পারেন। আমি শুধু লেখার ঐ দিনগুলোর কথাই বলছি। যতদিন তুমি উপন্যাস লেখার মধ্যে থাকবে ততদিন যথাসম্ভব মদ স্পর্শ করবে না। করলেও মাসে এক দিনের বেশি নয়। গ্রীষ্মপ্রধান বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে একদিনের বেশি মদ খাওয়া তোমার উচিত নয়। কারণ লেখার দিনগুলো তোমার প্রার্থনার কাল। ধ্যানের কাল। মনে রাখবে, লেখাই হচ্ছে ঔপন্যাসিকের প্রার্থনা। মদ চিন্তার নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। যে মগ্নতার মধ্যে থাকেন ঔপন্যাসিক, সেই মগ্নতায় ছেদ ঘটায় মদ। একটা রাত তুমি মদ খেয়ে কেন নষ্ট করবে?

লেখার দিনগুলো ছাড়া অন্য দিনগুলোতে মদ তুমি খেতেই পারো। অবশ্যই ভালো মদ খাবে। বাজে মদ তোমার পরিপাকতন্ত্রে সমস্যার উদ্ভব ঘটাতে পারে। সতর্ক থাকবে, মদ যেন তোমাকে না খায়। প্রতিদিন মদ খেলে শরীরটা তোমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। কথা গঠনের জন্য শরীরকে নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই দরকারি। তোমার মনোযোগ যাতে লেখার দিকে থাকে, শরীরের দিকে যেন না যায়। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিদিন মদ খেয়ে কেউ অসাধারণ কথাশিল্প সৃষ্টি করতে পেরেছেন, তার নজির নেই। ভবিষ্যতেও পারবেন বলে মনে করি না। আর লেখক হতে হলে মদ-গাঁজা খেতেই হবে, এমন কথাগুলোকে মোটেই প্রশ্রয় দেবে না। লেখালেখির সঙ্গে মদ-গাঁজার কোনো সম্পর্ক নেই। তুমি তো লেখক। তুমি তো এমনিতেই নেশাগ্রস্ত থাক। লেখাই তো তোমার নেশা। সারক্ষণ তো তুমি এই নেশার ঘোরেই থাকবে। নেশার জন্য তোমাকে প্রতিদিন মদ খেতে হবে কেন?

লেখার এই দিনগুলোতে বন্ধুদের সঙ্গও এড়িয়ে চলবে যথাসম্ভব। গণযোগাযোগ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনবে। তুমি যদি চাকরিজীবী হও, এই দিনগুলোতে অফিস শেষ করে সোজা বাসায় ফিরবে। অন্য সময়ে তুমি বেশ্যালয়েও যেতে পার, কিন্তু লেখার দিনগুলিতে তুমি এই চিন্তা মাথাতেই আনবে না। এই দিনগুলোতে তুমি তোমার সুন্দরী প্রেমিকাটির কথাও বেশি ভাববে না। কারণ তাতে মনোযোগের অখণ্ডতা বিনষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যথাসম্ভব মোবাইল বন্ধ করে রাখবে। আর ফেসবুক? মনে রাখবে, একজন লেখক ধ্বংস হওয়ার জন্য পৃথিবীতে যত অস্ত্র রয়েছে, সবচেয়ে ভয়াবহ অস্ত্রের নাম হচ্ছে ফেসবুক। লেখকের জন্য ফেসবুক হচ্ছে সেই স্বর্গীয় অপ্সরী, ঋষির তপস্যা ভাঙানোর জন্য  দেবতা যাকে বিশেষ এসাইনম্যান্ট দিয়ে তপোবনে পাঠিয়েছে।

 

ছয়.

তুমি জানতে চেয়েছ, ঔপন্যাসিকের উচিত কিনা বিয়ে করা? প্রশ্নটা খুবই বালকসুলভ। অবশ্য তুমি তো বালক, তোমার প্রশ্ন তো বালকসুলভই হবে। তার ওপর এতক্ষণ যা বলেছি তাতে এমন প্রশ্ন তোমার মনে উদয় হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। শোনো, বিয়ে হচ্ছে যৌন-চাহিদা মেটানোর একটি সামাজিক প্রথা। নর ও নারী নিভৃতে উলঙ্গ হওয়ার সামাজিক স্বীকৃতি। জেনে রাখো, প্রতিটি পরিবারই একেকটি যৌন খামার। প্রজনন খামারও বলতে পার। এই খামারে আমার জন্ম, তোমার জন্ম। আমার বেড়ে ওঠা, তোমার বেড়ে ওঠা। তুমি গভীরভাবে খেয়াল করলে দেখতে পাবে, এসব খামারের অধিকাংশ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রেম বলতে কিছু নেই। যেন বাধ্য হয়ে তারা যৌথ বসবাস করছে। দুজন মানুষ এতটা বছর একসঙ্গে থাকলে প্রেম অবশ্য না থাকটাই স্বাভাবিক। প্রেমে বিরহ থাকতে হয়। তুমি তো জান, মিলনে প্রেম মলিন হয়। ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে। যেসব দম্পতির মধ্যে প্রেম থাকে, তাঁরা প্রকৃতির বিশেষ আশীর্বাদ প্রাপ্ত।

সুতরাং তুমি যদি বিয়ে না করে যৌন-চাহিদা মেটাতে পারো, যেমন লিভ টুগেদার, বিয়ের কোনো দরকার আছে বলে মনে করি না। কিন্তু তোমার দেশের অধিকাংশ মানুষ জ্ঞানকাণ্ড অবিকশিত। এখনো বেশিরভাগ মানুষ নারীকে গৃহপালিত দাসী মনে করে। লিভ টুগেদার বা বিয়েবহির্ভূত যৌন-সম্পর্ক তাদের চোখে ঘোরতর অপরাধ। তাই এ দেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিয়ে ছাড়া যৌন-চাহিদা মেটানো তোমার পক্ষে প্রায় অসম্ভব। সুতরাং বিয়ে ছাড়া তোমার গতি নেই। মানুষ হিসেবে তোমার মৌলিক অধিকারের মধ্যে সেক্স একটি। এটি ছাড়া তুমি সুস্থ থাকতে পারবে না। মিশেল ফুকো পড়, সিগমুন্ড ফ্রয়েড পড়। দেখবে, মানবজীবনে যৌনতার গুরুত্ব কতখানি।

তা ছাড়া বিয়ের একটা সুবিধা হচ্ছে, সেক্সের পেছনে তোমাকে সময়ের অপচয় করতে হবে না। আর বিয়ে তোমার মধ্যে এক ধরনের স্থিতিশীলতাও আনবে। তোমার মধ্যে তো একটা বাউণ্ডুলে ঘাপটি মেরে আছে। বিয়ে ঐ বাউণ্ডুলের লাগাম টেনে ধরে রাখবে। তোমাকে বাড়িমুখো করবে। দিনশেষে বাড়ি ফেরার একটা তাড়না তোমার মধ্যে কাজ করবে। তাতে বরং তোমারই লাভ। সুতরাং নিশ্চিন্তে তুমি বিয়ে করতে পার। তবে স্ত্রী নির্বাচনে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে তোমাকে। ভুল মানুষের সঙ্গে জীবন-বিনিময় করলে তোমার সর্বনাশ ঘটে যেতে পারে। সবসময় চেষ্টা করবে তাকে তোমার উপযোগী করে গড়ে তুলতে। তোমার চিন্তা-চেতনা তার মধ্যে প্রবিষ্ট করবে। তাকেও করবে তোমার জ্ঞানচর্চার অংশীদার; যাতে তিনি তোমার একজন সহযোগী হয়ে উঠতে পারে।

এবং সাবধান, স্ত্রীর প্রতি কখনো অসদাচরণ করবে না। তার প্রতি ভালোবাসা যেমন থাকবে, সমপরিমাণ শ্রদ্ধাও রাখবে। কারণ, দুটি মানুষ একসঙ্গে থাকা কিন্তু অনেক বড় ব্যাপার। কঠিন কর্ম। বিয়ে মানেই সেক্রিফাইস। তোমাকে কন্টিনিউ ছাড় দিয়ে যেতে হবে। কোনো কারণে তোমাদের মধ্যে যদি সম্পর্কের অবনতি ঘটে, তোমার জীবনটা হয়ে উঠবে কথিত নরকের চেয়েও খারাপ। স্ত্রী সারাক্ষণ তোমাকে উৎপীড়নের মধ্যে রাখবে। এতে তোমার লেখালেখিতে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটবে। আমি বাংলাদেশের একাধিক লেখককে জানি, স্ত্রীর অত্যাচারে যাঁদের জীবনটা হয়ে উঠেছে দুর্বিসহ। অনেকে লেখালেখি পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছেন স্ত্রীর উৎপীড়নে। এক লেখককে জানি, স্ত্রীর উৎপীড়ন থেকে রেহাই পেতে তিনি একাধিকবার আত্মহত্যা করতে চেয়েছিলেন।

স্ত্রীর উৎপীড়ন কাকে বলে, জানতে পারবে মহান ঔপন্যাসিক কাউন্ট লিউ তলস্তয়ের জীবনী পড়লে। বিয়ের পর থেকেই বাকি জীবন স্ত্রী সোফিয়া আন্দ্রেই মারাত্মক যন্ত্রণা দিয়েছেন তলস্তয়কে। অবশ্য এ জন্য তলস্তয়ও কম দায়ী ছিলেন না। বিয়ের আগেই তিনি তাঁর ‘চরিত্রহীনতা’র দলিল দিনপঞ্জিগুলো সোফিয়ার হাতে তুলে দিয়েছিলেন, যেখানে লেখা ছিল জীবনে তিনি কতজন নারীর সঙ্গে শুয়েছেন, সেসব কথা। বলেছিলেন, ‘পড়ে দেখ, এই হচ্ছি আমি।’ কাজটা তিনি না করলে বিয়ে-পরবর্তী এমন উৎপীড়ন হয়ত তাঁকে সইতে হতো না। বিরাশি বছর বয়সে স্ত্রীর নিষ্ঠুর নিপীড়ন থেকে বাঁচতে শেষ হেমন্তের কনকনে ঠাণ্ডার ঘুটঘুটে অন্ধকার রাতে ব্যক্তিগত চিকিৎসক দুশান মাকোভিৎস্কিকে নিয়ে বাড়ি ছাড়লেন তলস্তয়। জীবিত আর ফিরতে পারলেন না, আস্তাপভ রেল স্টেশন মাস্টারের বাড়ির কামরায় তিনি মৃত্যুকে বরণ করলেন। সে বড় হৃদয়বিদারক ঘটনা। অতএব দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে তোমাকেও সতর্ক থাকতে হবে।

সন্তান না নিয়ে থাকতে পারলে খুবই ভালো। কিন্তু নারীর মধ্যে মাতৃত্বের আকাক্সক্ষা থাকে প্রবল। তোমার স্ত্রী চাইবে সন্তান নিতে। তুমি তো তাকে মাতৃত্ব থেকে বঞ্ছিত করতে পার না। তাই সন্তান তোমাকে নিতেই হবে। তবে অবশ্যই দুই সন্তানের বেশি নয়। একটি হলে খুবই ভালো। এর বেশি হলে তাদের পেছনে বিস্তর সময় ব্যয় করতে হবে তোমাকে। মনে রাখবে, সন্তানাদির পেছনে ব্যয় করার মতো যথেষ্ট সময় তোমার হাতে নেই। তুমি বংশ বিস্তারের জন্য পৃথিবীতে আসোনি। সন্তান-উৎপাদনের মাধ্যমে পৃথিবীকে সুন্দর করে রাখার জন্য বিস্তর মানুষ আছে। তোমাকে তা না করলেও চলবে। তোমার সন্তান তো তোমার উপন্যাস। তুমি তাদের জনক। প্রতিটি উপন্যাসকে তোমার কন্যা-পুত্র ভাবো। এবং তোমার স্ত্রীকেও তা ভাবতে অনুপ্রাণিত করো। তাতে দেখবে, তোমার সংসারটা হয়ে উঠবে আনন্দময়।

তোমার ঠোঁটে ঝুলে থাকা হাসি দেখে বুঝতে পারছি, তোমার মনে এই মুহূর্তে যে প্রশ্নটা ঘুরপাক খাচ্ছে তা হচ্ছে এই, তোমার কোনো প্রেমিকা থাকবে কিনা? শোনো, লেখকের জন্য প্রেম অপরিহার্য। প্রেম তোমার সৃষ্টিশীলতাকে জাগরুক রাখবে। তরুণী প্রেমিকাটির চোখের দিকে তাকিয়ে তুমি জীবনের যে উষ্ণতা পাবে, তা তোমার লেখালেখির সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। আর প্রেম না করলে নর-নারীর সম্পর্কে জটিল সূত্রগুলো তুমি কীভাবে জানবে? সুতরাং প্রেমের বিকল্প নেই। তাই বলে অধিক প্রেম করো না। তাতে তোমার ধ্বংস অনিবার্য। কারণ, দিনের বেশিরভাগ সময় যদি প্রেমিকাদের পেছনেই ব্যয় করো, উপন্যাস লিখবে কখন?

 

লেখক: স্বকৃত নোমান, কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

 

1274 Views

Related posts

7 Comments

  1. prix said:

    Thank you for the auspicious writeup. It in fact was a amusement account it.
    Look advanced to more added agreeable from you! However, how could we
    communicate?

  2. medic said:

    Simply wish to say your article is as amazing. The clearness to your post is simply spectacular and i can assume
    you’re an expert on this subject. Well together with your permission allow me to
    grasp your RSS feed to stay updated with approaching post.

    Thank you one million and please continue the enjoyable work.

  3. medic said:

    I need to to thank you for this wonderful read!!
    I certainly enjoyed every bit of it. I’ve got you saved
    as a favorite to check out new things you post…

  4. medic said:

    Terrific article! That is the type of info that are meant to
    be shared across the internet. Shame on Google for not positioning this post higher!
    Come on over and discuss with my site . Thanks =)

*

*

Top