কিচ্ছু নেই কথাসাহিত্যের ওপরে, কিচ্ছু নেই -অরুন্ধতী রায়, দ্বিতীয় উপন্যাস The MINISTRY of UTMOST HAPPINESS প্রসঙ্গে…

কিচ্ছু নেই কথাসাহিত্যের ওপরে, কিচ্ছু নেই Arundhuti Ray

কিচ্ছু নেই কথাসাহিত্যের ওপরে, কিচ্ছু নেই । দ্বিতীয় উপন্যাস The MINISTRY of UTMOST HAPPINESS প্রসঙ্গে এ কথা্ বলেছেন বুকার জয়ী লেখিকা অরূন্ধতী রায়। কুড়ি বছর পর এই প্রথম অরুন্ধতী রায় একটি নতুন উপন্যাসের কাজ সমাপ্ত করলেন। কাজ শেষ করে তার প্রকাশনা এজেন্ট কে বললেন: ‘পাণ্ডুলিপি নিলামে তুলে দরাদরি করা চলবে না – এই সব বেহায়াপনা আমার একদম পছন্দ না, বুঝলে?’ বললেন, আগ্রহী প্রকাশকেরা যেন তাকে চিঠি লেখেন। সেই চিঠিতে তারা পাণ্ডুলিপি পড়ে গল্পটা ‘কেমন বুঝলেন’ তার বর্ণনা দেবেন।

কিছুদিন পর তিনি এদের সবাইকে নিয়ে একটি সভা ডাকলেন। সভার পর এজেন্ট তাড়াতাড়ি প্রকাশক বাছাই-এর সিদ্ধান্ত চুড়ান্ত করার উদ্দেশ্যে বললেন, ‘ঠিক আছে, তুমি জানো ওরা কী বুঝেছে। দেখাও তো হলো। এবার ঠিক করে ফেলো।’

‘না, না। এখনো না।‘ অরুন্ধতী উত্তর দিলেন। ‘আগে আমার পরামর্শ নিতে হবে।’

এজেন্ট মহাফাঁপড়ে পড়লেন।

‘তুমি তো আমার থেকেই পরামর্শ নেবে, নাকি?’

‘না, আমার লোকেদের সাথে পরামর্শ করতে হবে, বুঝলে, আমার বইয়ে যেসব লোক আছে।’

লেখক ও এজেন্ট একসাথে কিছুক্ষণ চুপচাপ বসলেন। ততক্ষণ অরুন্ধতী তার উপন্যাসের চরিত্রদের শুধালেন কোন প্রকাশককে তাদের পছন্দ। গল্পের চরিত্ররা বাছাই করল প্রকাশক।  সেই ব্যক্তি যে অন্য প্রকাশকদের চাইতে অর্ধেক টাকা দিতে চাইছেন, সেকথা এজেন্ট মনে করিয়ে দিলেন।

অরুন্ধতী নির্বিকার। ‘তা হোক। আমার চরিত্রদের ওকেই পছন্দ।’

আমাকে এই গল্পটি বলার পর আমার চেহারায় বিস্ময় দেখে অরুন্ধতী হেসে ফেললেন। ‘সবাই ভাবে আমি একা থাকি, সেটা কিন্তু ঠিক নয়। আমার চরিত্রগুলো সব আমার সাথে থাকে।’

সব চরিত্ররা তার সাথে বাস করে?

‘অবশ্যই। দরজা বন্ধ করতে না করতেই প্রশ্ন করি – ওই লোকটা সম্বন্ধে তোমার কী ধারণা হলো – একটা

আহাম্মক, তাই না?’

এই সাক্ষাৎকারে শেষে আমি চলে গেলেও কি অরুন্ধতী চরিত্রদের প্রশ্ন করবেন? যেটা জানা কথা তাই নিয়ে আবার প্রশ্ন করলাম দেখে অবাক হলেন। ‘অবশ্যই।’

গত কুড়ি বছরে অরন্ধতীর লেখালেখি নিয়ে তার সাহিত্যের গুণগ্রাহীরা অনেকেই ধাঁধায় পড়েছেন। তিনি কি যথার্থই সাহিত্যিক, নাকি তার প্রথম উপন্যাস একটা আকস্মিক ঘটনা? তার প্রথম উপন্যাস The God of Small Things (‘ক্ষুদ্র জিনিসের ঈশ্বর’) যখন প্রকাশিত হয়, তখন তুমুল আলোড়নের সৃষ্টি হয়। অরুন্ধতীর বয়স তখন ৩৫। কাহিনি এক ক্ষয়িষ্ণু ভারতীয় পরিবার নিয়ে। সেই পরিবারে নানান বেদনাময় সঙ্কট, কেলেঙ্কারি। বইটি বিলেতের বিখ্যাত বুকার প্রাইজ পায়। ৪২টি ভাষায় ৮০ লক্ষ বই বিক্রি হয়। এক অখ্যাত চিত্রনাট্যকার রাতারাতি হয়ে যান আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব। অনেকেই ধরে নেন অরুন্ধতী তার প্রজন্মের সাহিত্যিক কণ্ঠস্বর হতে যাচ্ছেন।

তারপর ২০ বছর হলো, অরুন্ধতী বহু নিবন্ধ-প্রবন্ধ লিখেছেন, নানা বিষয়ে আলোচনামূলক বই লিখেছেন, প্রামাণ্য চলচ্চিত্র বানিয়েছেন। প্রতিবাদ করেছেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে। হিন্দু জাতীয়তাবাদ, পরিবেশ বিনষ্টকরণ, তীব্র অসাম্য – এসবের বিরূদ্ধেও প্রতিবাদ করেছেন। কাশ্মীরের স্বাধীনতা, মাওবাদী বিদ্রোহী আর আদিবাসীর জমির অধিকার – এসবের পক্ষে আন্দোলন করেছেন। মার্কিন সাপ্তাহিক Time পত্রিকার বিশ্বের ১০০জন শীর্ষ প্রভাবশালীদের তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।

তার রাজনৈতিক সমর্থকদের চোখে তিনি সৎ প্রতিরোধের সপক্ষে কড়া বামপন্থী কণ্ঠস্বর। নিন্দুকের চোখে তিনি অপরিণত আদর্শবাদের চুড়ান্ত উদাহরণ; তার চিন্তা ভাবনা অবাস্তব, তিনি বড্ড নিজেকে নিয়ে মশগুল। আদালত অবমাননা এবং দেশদ্রোহিতার জন্য অভিযুক্ত হয়েছেন, জেল খেটেছেন, গত বছর কিছু সময়ের জন্য প্রাণভয়ে ভারত থেকে পালিয়েছেন। তবে এই বই প্রকাশিত হবার আগে এক বর্ণও গল্প-উপন্যাস প্রকাশ করেননি।

২০১১ সালে একবার ঠারে-ঠোরে জানিয়েছিলেন দ্বিতীয় উপন্যাসের কাজ চলছে। তারপর বছরের পর বছর গেল, উপন্যাসের টিকিটিরও দেখা নেই। কারো কারো কাছে অরুন্ধতীকে সাহিত্যিক হিসেবেই বিবেচনা করা কঠিন হয়ে উঠলো। The God of Small Things (‘ক্ষুদ্র জিনিসের ঈশ্বর’) উপন্যাসের ভাষা ছিল বাঙ্ময়, সুক্ষ্ম, ইঙ্গিতময়, কিন্তু অরুন্ধতীর নিবন্ধ-প্রবন্ধের ভাষা আর রাজনৈতিক আন্দোলন নিয়ে অভিযোগ উঠলো যে অরুন্ধতীর ভাষা বড্ড চড়া, অতিসরলীকরণে দুষ্ট।

লণ্ডনের একটি হোটেলে অরুন্ধতীর নতুন উপন্যাস The Ministry of Utmost Happiness (‘পরম সুখ মন্ত্রণালয়’) নিয়ে যখন কথা বলতে এলাম, তখনো আমি নিশ্চিত নই অরুন্ধতীর কোন কণ্ঠস্বর আমি শুনবো।

অরুন্ধতী যখন এলেন, দেখলাম তিনি শাড়ির মত পেঁচিয়ে সারা ঊর্ধ্বাঙ্গে হাল্কা গোলাপী লিনেন জড়িয়েছেন। সাথে জিনস, পায়ের দিকটা গোটানো। পায়ে মুখ-খোলা স্যান্ডেল। নখে টকটকে লাল নেলপালিশ। হাঁটাচলায় সৌকুমার্য চমকে দেবার মত, কথা বলেন খুব নীচু স্বরে। বয়স ৫৫, তবে চালচলনে খানিকটা কিশোরীর নিষ্পাপ চপলতা রয়েছে। হাসির মধ্যে অনুচ্চারিত দুষ্টুমির ঝিলিক। মনে হয় তার রাজনৈতিক গোঁ যে সমাজে তোলপাড় করেছে, সেটা নিয়ে খানিকটা আত্মপ্রসাদ অনুভব করেন। কথা বলার ভঙ্গী এমন, যেন তাতে কিছু কিছু কথা না বলা রয়ে যায়। কথা শেষ করেন সুন্দর অঙ্গভঙ্গিমায় বা পরিহাসতরল অর্থবোধক মুখভঙ্গিতে।

তিনি কি সাহিত্যিক? অরন্ধতীর উত্তর: “কথাসাহিত্যের ওপরে কিচ্ছু নেই। আমি মূলত কথাসাহিত্যিক। আমি গল্প বলি। পৃথিবীকে বুঝতে, ঠিক কী খেলা চলছে এখানে, সেটা বোঝার ঐ একটাই পথ আমার।‘

দ্বিতীয় উপন্যাসে শুরু করেছিলেন সম্ভবত ১০ বছর আগে। অন্তত তাই তার ধারণা, তবে নিশ্চিত নন। (‘বিষয়টা এত জটিল, আমার মনে নেই।‘) কতদিন লেগেছে সে বিষয়ে ভাবতে তিনি নারাজ। মুচকি হেসে বললেন, তার প্রকাশনার এজেন্ট তাকে হাড়ে হাড়ে চেনে। তাই তাড়া দিয়ে মিছেমিছি সময় নষ্ট করেনি। তার নিবন্ধ-প্রবন্ধ নির্দিষ্ট সময় ধরে লেখা হয়েছে সময়েরই প্রয়োজনে – সেনা অভিযান, আদালতের রায়, ইত্যাদির প্রতিক্রিয়ায়। কিন্তু গল্প-উপন্যাস লেখা ‘তার নিজের সময়ানুযায়ী ঘটে। এতে কোন তাড়া দেবার সুযোগ নেই। আমি চাইলেও আরো ধীরে বা তাড়াতাড়ি লিখতে পারব না। এ যেন পুরাকালের পাথর, দীর্ঘ সময়ের হাত ধরে ধরে তাতে নানা স্তর জমছে, তার চারপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। গল্প আর প্রবন্ধ-নিবন্ধ – এই দুইয়ের স্বভাবে যে ভিন্নতা, সেটা জরুরি তাগিদ আর অনন্তকালের তফাৎ।‘

তিনি এটুকু জানতেন যে God of Small Things (‘ক্ষুদ্র জিনিসের ঈশ্বর’)-এর দ্বিতীয় খণ্ড লেখার বাসনা তার ছিল না।

তবে একটুখানি মিল রয়েছে। তার প্রথম উপন্যাসের অনুপ্রেরণা পরিবারের ছেলেবেলার কাহিনি থেকে, আর তার দ্বিতীয় উপন্যাসও ভিন্ন অর্থে আত্মজীবনীমূলক। এইবার তিনি তার প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের স্বভাব আর মানসিকতাকে ধরার চেষ্টা করেছেন। ‘এই যে আমি এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াচ্ছি, দিল্লীতে যেমনটা করি, মসজিদে বা অদ্ভুত সব জায়গায়, আমি সারাজীবনই এমন করেছি, সেসব নিয়ে লিখতে চেয়েছি। এই যে সব পাগলের দল, এত ভাল মানুষের দল, এদের কথা ভেবে আনন্দ পাওয়া, খুব দুঃখের জায়গাতেও একটু সুখ পাওয়া, এই যে কত ব্যাপার আছে যে ভাবাই যায় না, এইসব।‘ সামাজিক দৃষ্টিতে হীনতম লোকটির ব্যাপারেও অরুন্ধতীর আগ্রহ, তিনি তার সাহচর্য চান। ‘আমি কাউকে পাশ কাটিয়ে, এড়িয়ে যেতে চাই না। আমি চাই তার সাথে বসে আড্ডা মারতে। একটা সিগারেট ধরিয়ে তাকে শুধাতে – কী ভাই, কেমন চলছে সব?’ আমারতো মনে হয় এইসব নিয়েই আমার বই।

‘পরমসুখ মন্ত্রণালয়’ আসলেই ঠিক তাই। এক হিজড়া নারীকে নিয়ে সুবিস্তৃত, বর্ণাঢ্য  কাহিনি। এই নারী ছোটবেলায় বাড়ি ছেড়ে চলে আসে পুরোন দিল্লীর ভাঙাচোড়া জীর্ণ পরিবেশে একটি হিজড়ার গোষ্ঠীর সাথে বসবাস করতে। এই গোষ্ঠীর সদস্যদের যেমন নায়িকাসুলভ গুমোর ও দর্প রয়েছে, এরা আবার খুবই বন্ধুবৎসল। এরা তেজী অথচ বিপন্ন। এরা একদিক দিয়ে সমাজে একঘরে, আবার অন্যদিকে এদের প্রতি মানুষের একধরনের নিষিদ্ধ, জৌলুসময় কৌতুহল। কিন্তু ৪৬ বয়স্ক আনজুম গুজরাতের নরমেধযজ্ঞে জড়িয়ে পড়ে। সেখানে সে ঠিক করে  সে হিজড়াসমাজে আর থাকবে না, বৃহত্তর সমাজে আবার ফিরে আসবে। আনজুম অন্তরে ক্ষতবিক্ষত, কিন্তু লক্ষ্যে স্থির। এক গোরস্থানে সে ঘর বাঁধে। আস্তে আস্তে কবরের ওপর একটি একটি করে ভাড়া দেবার ঘর বানায় – অবশেষে তার জান্নাত গেস্ট হাউস হয়ে ওঠে নানা ব্রাত্য মানুষের এক অতি উদ্ভট সমাহার: অচ্ছুৎ, ধর্মান্তরিত মুসলমান, হিজড়া, মাদকাসক্ত, এমনকি জয়নাব নামে একটি পরিত্যক্ত  শিশুও সেখানে উপস্থিত হয়। এই বাচ্চাটিকে আনজুম নিজে লালন করার দায়িত্ব্ব নেয়।

এই কাহিনির পাশাপাশি সমান্তরালভাবে আরেকটি সুবিস্তৃত কাহিনি রয়েছে। তার ঘটনাস্থল ও বিষয় কাশ্মীর। আমার মতে কাশ্মীরের কাহিনি একটা আলাদা উপন্যাস হলে ভাল হতো, কিন্তু অরুন্ধতীর মত হলো দুটো কাহিনি পরস্পরের সাথে ওতোপ্রতভাবে সম্পৃক্ত – বইটাই তো সমাজের নানা সীমান্ত নিয়ে। ‘ভৌগলিকভাবে কাশ্মীর নানা সীমান্তে ক্ষতবিক্ষত, আবার বইটিতে প্রত্যেকটি চরিত্রের নিজের ভেতর একটা সীমান্ত আছে। এই সীমানাগুলো আপনি কীভাবে বোঝেন, উপলব্ধি করেন – সেটা নিয়েই বই। সব বুঝবার পর কীভাবে সবার দিকে হাত বাড়িয়ে দেন, বলে ওঠেন: ‘জান্নাত গেস্ট হাউসে আসুন।‘ বুঝতে পারলেন তো আমার কথা? সবাইকে স্বাগতম।‘

‘পরমসুখ মন্ত্রণালয়’-এর কাহিনি হৈ-হট্টগোলে ঠাসা বর্ণিল মেলার মত। লেখিকার মতই কাহিনি দুঃখ-বেদনায় হাস্যরসের সন্ধান পায়, প্রচলিত সংস্কারের প্রতি তাচ্ছিল্য দেখায়। গল্পে অজস্র অদ্ভুত, পাগলাটে চরিত্রের আনাগোনা এক সময় ক্লান্তিকর ঠেকে। এ যেন এমন একটা দাওয়াতে গিয়েছেন যেখানে একের পর এক অতিথি আসছে তো আসছেই। তবে কাহিনিতে যথেচ্ছ চরিত্রের আনাগোনা শুধু লেখকের সচেতন সিদ্ধান্ত নয়, এটি অরুন্ধতীর রাজনৈতিক ভাবনা ও বইটির মৌলিক বিষয়বস্তু।

‘জাতিভেদের উদ্দেশ্যই হলো মানুষে মানুষে এমনভাবে ভেদাভেদ সৃষ্টি করা যাতে কোনভাবেই আর মানুষের একতাবদ্ধ হবার উপায় না থাকে। কারণ নিচু জাতির মধ্যে আবার গোত্র আছে, আরো ভাগ আছে। সবাইকে এই আধিপত্যের ক্রমানুসারে গঠিত, পরস্পর বিচ্ছিন্ন গণ্ডিবদ্ধ সমাজ রক্ষার কাজে লাগানো হয়েছে। এই হলো শ্রেণি, জাতি, গোষ্ঠী, ধর্ম অনুযায়ী ছক তৈরির রাজনীতি। সেই ছককে আরো সুক্ষ্ম ভাগে ভাগ করাটা গোটা পৃথিবীকে তাঁবে রাখার অপরিহার্য অংশ। মানুষকে এই কথা বলে বশীভূত রাখা: ‘তুমি মুসলমান, তুমি হিন্দু, তুমি শিয়া, তুমি সুন্নি, তুমি বারেলভি, তুমি ব্রাহ্মণ, তুমি সারস্বত ব্রাহ্মণ, তুমি দলিত, তুমি সমকামী, তুমি অপর লিঙ্গের প্রতি আসক্ত, তুমি লিঙ্গত্যাগী – তাই তুমি শুধু নিজের পক্ষেই কথা বলতে পারো, কারো সাথে ঐক্যবদ্ধ হবার কোন পথ নেই।‘ অর্থাৎ মানুষ যাকে মুক্তি ভাবছে সেটা বাস্তবে দাসত্ব।‘

অরুন্ধতী বললেন যে বর্তমান ‘আধুনিক’ ভারতে ১%-এর কম মানুষ নিজ জাতির বাইরে বিয়ে করে। ‘আনজুমের যে জিনিসটা আমার ভীষণ ভাল লাগে তা হলো সে যখন (গুজরাতে নরমেধযজ্ঞের ফলে) বিপদে পড়ে, তখন সে হিজড়া বলে রক্ষা পায়।‘ যেই পরিচয়ের কারণে সমাজচ্যুত হয় তার ফলেই সে বেঁচে যায় আর তাতেই ‘সে একাত্মতা অনুভব করে, তার আত্মপরিচয়ের গণ্ডির বাইরে যে পৃথিবীটা রয়েছে, সেখানে কী ঘটছে তা সে উপলব্ধি করতে চায়। সে যখন জয়নাবের মা হয়, তখন জয়নাবের জন্যই সে এই জগৎটাকে বুঝতে চায়। সে এই ছক আর মানে না। সে এই ছক ভেঙে বেরিয়ে আসে।‘ অরুন্ধতীর মুখ স্বর্গীয় হাসিতে উদ্ভাসিত হয়। ‘আমার জন্য এটি ভারি সুখের।’

 

সংগ্রহ: অরুন্ধতী রায়ের দ্বিতীয় উপন্যাস নিয়ে সাক্ষাৎকার ‘Fiction takes its time’: Arundhati Roy on why it took 20 years to write her second novel ডেকা এটকিনহেড দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা থেকে অনুবাদ করেছেন আশফাক স্বপন। আশফাক স্বপন ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী উপমহাদেশীয় সংবাদ মাধ্যমে সাংবাদিকতা করছেন। বর্তমানে ঢাকার Daily Star পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লেখেন। তার লেখা বাংলাদেশের  প্রথম আলো, সমকাল, কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, পাকিস্তানের Dawn, ভারতের Times of India ও Statesman ত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। তিনি আটলান্টায় থাকেন। বইয়ের হাটের  জন্য এই  অনুবাদটি তিনি ওঙ্কার-এ প্রকাশের জন্য দিয়েছেন।

924 Views

Related posts

*

*

Top