কবি সায়াদাত চমন’র একগুচ্ছ কবিতা

কবি সায়াদাত চমন’র একগুচ্ছ কবিতা

কবি সায়াদাত চমন’র একগুচ্ছ কবিতা

মৃত্যুর সংবাদ

একদিন রেগেমেগে
ভিখারীর থালা উল্টে দিতেই দেখি
ওখানে একটা সাগর লুকানো ছিলো
সাগরে ডুব দিয়ে দেখি
চোখের পানির মতো লবণাক্ত ইতিহাস
আমি সে করুণ ইতিহাসের টানে
গভীর থেকে গভীরে যেতে যেতে
বেদনায় মরে গেলাম।

ভিখারী আমার মৃত্যু দেখে হাসছিলো
আর বলছিলো – ‘আমাকে জানতে গিয়ে
তুমি বেদনায় মরে গেলে! অথচ দেখো
নিজেকে জেনেও আমি কীরকম বেঁচে আছি।’

 

অনুপস্থিত স্যার

একবার টিফিনে ক্লাস ফাঁকি দেয়া এড়াতে স্কুল কর্তৃপক্ষ টিফিন পরবর্তী ক্লাস শেষে নাম ডাকার ব্যবস্থা করলো। যথারীতি ক্লাস হচ্ছে, আমি তখন মাকড়সার সংগ্রাম দেখছিলাম। একটা মাকড়সা সিলিং থেকে কৌণিক দূরত্বের একটা পিলারের সাথে সংযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বারবার চেষ্টা করছে আর পড়ে যাচ্ছে। আমিও আগ্রহ নিয়ে কৌণিক দূরত্ব থেকে স্কটল্যাণ্ডের রাজা রবার্ট ব্রুসের মতো মাকড়সার এ দৃশ্য দেখছি। ইনছান স্যার তখন হয়তো অ্যাকটিভ ভয়েসকে প্যাসিভ ভয়েসে রূপান্তর শেখাচ্ছেন। আমার সেদিকে খেয়াল নেই। মাকড়সাটা যেই পিলারটা স্পর্শ করবে তখনই কানে এলো – রোল নাম্বার এ-এ-এক। আমি তড়িঘড়ি দাঁড়িয়ে বললাম – অনুপস্থিত স্যার। ক্লাসের সবাই একযোগে হেসে ওঠলো। সেদিনই বুঝলাম, সত্য এমনই হাস্যকর হয়।

ভবিতব্য

আমাদের কিছু হবে না ভেবে
যারা মুখ ফিরিয়ে থাকেন
তাদেরকে বলি-
আপনাদের যেমন হবে
একদিন আমাদের ও হবে
সেদিন আপনার সাথে আমার
আমার সাথে আপনার দেখা হবে কি না
একজন আরেকজনকে চিনবো কি না
সেটাই ভাবনার বিষয়

আপনি হয়তো ভাবছেন
আমাদের কি হবে?
আমাদের কী হবে?

খেলোয়াড়

মায়ের চোখে ঝলঝলে স্বপ্ন দেখি
বাবার চোখে আশা-হতাশার খেলা
মা-বাবার সেই খেলায় আমিই খেলোয়াড়
রেফারির বাঁশি আমাকে আটকাতে পারে না
আমি আজন্ম ফাউল করে যাই ডিফেন্সে
প্রতিপক্ষের গোলপোষ্ট সে তো অনেক দূরের পথ
মা তবু স্বপ্ন দেখেন, বাবার আশা-হতাশার চোখেও ভেসে ওঠে-
ডিফেণ্ডার হয়েও আমার গোল করার দৃশ্য…

453 Views

Related posts

*

*

Top