একরাম কাদের আজাদ এর একগুচ্ছ কবিতা

একগুচ্ছ কবিতা

একরাম কাদের আজাদ এর একগুচ্ছ কবিতা

ফরেনসিক রিপোর্ট

এই ধরুন আজ থেকে চৌত্রিশ বছর পর,

তখন আমি ষাট,আবহমান পথ ধরে হাঁটছি।

হঠাৎ কোনো বয়েসী যুবকের নিরুদ্দেশ চলা দেখে কৌতুহলে এগিয়ে এলেন।

আবিষ্কার করলেন আপনার পরম্পরার আত্মীয়,

কয়েক হাজার দিনের অন্তে দেখা আজ।

ভেবে রেখেছেন এতদিনে আমি মৃত,

আমার পূর্বপুরুষরা যেমন সদলবলে মরেছেন।

আমার পিতার মৃত্যুসংবাদ আপনার অজানা নয়,

বেশ কিছু রোগে ভোগে তিনি মরলেন।

তবু শুধালেন কেনো তার মৃত্যু হলো।

আমি অনাড়ম্বরে উত্তর দিলাম,”তিনি ঈশ্বরে ভয়ংকর বিশ্বাস করতেন,তাই”।

আপনি হয়তো কষ্ট পেয়ে থাকবেন।

কিন্তু আপনি জানেন আমি অপালাপ করি না।

এরপর আমার মা, যিনি কিনা পিতার অল্প ব্যবধানে কবরে যেতে আপনি দেখেছেন,

তার কথা পাড়লেন।

আমি মাকে পরে পরে খুব ভালোবাসতাম, তাই কন্ঠ ভিজে উঠলো।

অথচ খুব শুকনো স্বরেই জানিয়ে দিলাম,”তিনি মরেছেন মৃত্যুভয়ে।

পিতার শোক তো ছিলই পাছে”।

হয়তো বিব্রত হবেন,এড়িয়ে যাবেন ঠিকই।

কেনোনা,আমার স্বরের আর্দ্রতা আপনি বুঝে নিবেন।

এরপর আমার একমাত্র বোনের সমাচারে আপনার আগ্রহ জাগবে।

তার বিয়েতে আপনার নেমন্তন্ন ছিল।

ভালোবেসে বিয়ে করেছে মেয়েটা।

ভুল করে ভেবেছিলো সুখি হবে,প্রত্যেকে যেমন ভাবে।

অতঃপর আমার উদ্ভট উত্তরে আপনি চমকাবেন নিশ্চই,

“সে তো বিয়ের দিন মারা গেছে”!

আপনি বুঝতে চাইবেন না প্রত্যেক প্রেমিকা সেদিন মারা যায়,

বৌ হতে গিয়ে।

হাঁটতে হাঁটতে আমরা পুবের পুকুর,

সুপারি বাগান, কালুনির ভিটে পেঁছনে ফেলে মরা

সূর্যের কাছাকাছি পৌঁছে গেলাম তখন।

আমি গোধূলি দেখবো বলে,আপনি অগত্যা অনুসরণ করছিলেন।

হঠাৎ মনে হবে আমি বলেও কেউ নেই।

“আপনি কেমন আছেন”

বলে যখন প্রশ্ন ছুড়ে আমাকে বুঝার ভান করছেন,

অল্প ক’টা শব্দ আপনার অনুভূতি নিংড়ে শুনিয়ে যাবে:

“আমিতো জন্মদিনেই মারা গেছি!

মৃত কোনো জাতীর পরম্পরার গুণ টানতেই আমি ষাট বছর ধরে দৌড়চ্ছি।”

 

 

কোন উৎসবের কথা বলছো

ক্যালেন্ডারের প্রত্যেকটা দিনের মতোন

কালও আমার শুধু মঙ্গলবার হোক,

যে কারোর খুশির জন্য ছিঁড়তে পারে না কোনো সজীব গোলাপ

আরো একবার ভোগাবে না দারিদ্রের চিন্তায়।

রোজকার মতোন করে না’হয় কালও আমার ঘুম ভাঙ্গুক বেলা ক’রে

নতুন সূর্যের মতোন দে’শলায়ের কাটি উষা হয়ে নিত্যকার চুমু দেওয়া বিড়ির মুখে প্রাণ দিয়ে যাক,

অন্তত তোমাদের সরস ঠোঁটের প্রেমিকার মতোন প্রতারণা যে জানে না।

রীতিমতো রেওয়াজি শার্ট প্যান্টে ঢুকে

কালও যেনো আমার যাতায়ত চলে জনতার ভিড়ে,

মিছিলের স্লোগানে চাপা পড়া জুতোর মতন

সাক্ষী হই যেনো সহস্র অভিনয়ের

___যাকে তোমরা উৎসব বলে জানো।

 

ঈশ্বর সমীপে

হে ঈশ্বর,

প্রেমে পড়া যদি পাপের কাতারে পড়ে

ক্ষমা করো,আমি পাপি বটে!

কবিতার ভাঁগাড়ে যত শব্দ রয়েছে

জ্যামিতিক হারে ততোবার প্রেমে পড়ার দুর্নাম আমি গড়েছি,

কেনোনা,নারীর মোহনীয় প্রতিটি অংশ আমায় লোভাতুর করেছে__

বয়েস কিংবা রঙের মাত্রায় কেউ ফেলনা হতে পারেনি।

অতঃপর ঈশ্বর,

হয় তোমার পৃথিবী নারীশূন্য করো

নয় আমার পাপকে জায়েজ করে দাও।

 

ঈশ্বর মৃত জেনে

যে প্রেম কোনোদিন ছুঁয়নি যোনীমূল,

তার ঈশ্বর মৃত জেনে

ফাঁপা কথায় কখনো আসে’নি ইমান।

সভ্যতার এভিন্যু করিডোরে

বিশ্বাসের প্রতিটি রেস্তরাঁয় রসহীন রসের রহস্য ছেঁনেছি বলে

উদ্দেশী প্রেমিকায় জমেনি সম্মান কভু।

কেনোনা মৃন্ময়,

যে নারী কখনো খোলেনি খোঁপা প্রেমিকের বুকে যে প্রেম ডরায় কাম্য অভিসার,

জেনো, ঈশ্বর মৃত সে প্রেমের।

 

অভুক্ত চুম্বন

একটা অভুক্ত চুম্বনের আর্দ্রতা নিয়ে

রোজ ঘুম ভেঙে যায়।

নিত্য নির্ঘুম রাতজাগার সঙ্গ দিচ্ছে পেঁচার শব্দের মতো ক্লিষ্টের কর্কশ কাঁশি।

আমারও আজকাল শ্বাসকষ্টের সমস্যা হচ্ছে,

ডাক্তারের নির্দেশ মেনে বুকপকেটে এক টুকরো প্রেমের মতোন নোজাল ড্রপ কেরি করি এখন।

ভোররাতে বিড়ি ফুকার নাম করে বেখেয়াল স্তব্ধ আলোর তলায় ছায়া গুনি,

একটি কিংবা একাদিক আমি’র।

একদা কুকুরকে ভীষণ ভয় পেতাম বলে নিশীথ কুকুরের কৌতুহলী সঙ্গ বেশ উপভোগ করি,

কেনোনা,ইদানিং আমার সব অভ্যেস উল্টে গ্যাছে।

কেবল কবে একবার তুমি ভালো থাকতে বলেছিলে বলে

এক দেহ ক্ষত নিয়ে আজও উত্তর দেই

“জ্বি,ভালো আছি”।

597 Views

Related posts

One Comment;

  1. একরাম কাদের আজাদ said:

    একতাল আন্তরিক শুভেচ্ছা কর্তৃপক্ষের প্রতি। ধন্যবাদ সফেদ দাদা।

*

*

Top